হজরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন সম্ভ্রান্ত ও ধনসম্পদে সমৃদ্ধ একজন নবী। তাঁর ছিল বিপুল সম্পদ ও বহু সন্তানসন্ততি। মহান আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর প্রিয় নবী ও রসুলদের বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন। হজরত আইয়ুব (আ.)–এর জীবনেও আসে এমনই এক কঠিন পরীক্ষা, যখন একে একে তাঁর সন্তানসন্ততি ও সম্পদ হারিয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর শারীরিক রোগে আক্রান্ত হন।
বর্ণনায় এসেছে, ওই রোগের সময় তাঁর শরীরের ওপর বিভিন্ন কীট-পতঙ্গ চলাফেরা করত। রোগের তীব্রতায় শরীরের মাংস খসে পড়ে, এমনকি হাড় ও শিরা ছাড়া শরীরে আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না। তাঁর স্ত্রী তাঁকে সেবা করার জন্য শরীরের নিচে ছাই বিছিয়ে রাখতেন। চরম কষ্ট ও দীর্ঘ রোগভোগের মধ্যেও তিনি ধৈর্য হারাননি।
সম্পূর্ণ শরীর আক্রান্ত হলেও তাঁর জিহ্বা ও হৃৎপিণ্ড অক্ষত ছিল। এই দুই অঙ্গের মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর জিকির করতেন এবং সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রশংসা অব্যাহত রাখতেন। এত বড় বিপদ ও কষ্টের মাঝেও তাঁর বিশ্বাস ও ধৈর্য ছিল অটুট।
রোগ দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠলে হজরত আইয়ুব (আ.) মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। কোরআনে বর্ণিত সেই দোয়াটি হলো—
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ (উচ্চারণ: আন্নী মাচ্ছানিয়াজ্জুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিন।)
এর অর্থ হলো, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দুঃখ-ক্লেশ বা ব্যাধি স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। এই দোয়াটি সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, হজরত আইয়ুব (আ.)–এর এই দোয়ায় আল্লাহ সাড়া দেন। মহান আল্লাহ তাঁর দুঃখ ও কষ্ট দূর করে দেন এবং তাঁর পরিবারকে পুনরায় ফিরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহস্বরূপ তাঁদের সঙ্গে সমপরিমাণ আরও দান করেন, যাতে তা ইবাদতকারীদের জন্য স্মরণীয় নিদর্শন হয়ে থাকে।
এই দোয়া মুসলমানদের জন্য রোগ, বিপদ ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে কোরআনে স্থান পেয়েছে।
সিএ/এসএ


