ইসলামে ইবাদতের মূল্য কেবল বাহ্যিক রূপ বা পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং নিয়ত, সময় ও পরিস্থিতির গুরুত্বেও তা গভীরভাবে নির্ভরশীল। অনেক সময় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পারিপার্শ্বিক দায়িত্ব, অভাব বা অনিবার্য বাস্তবতা মানুষের ইবাদতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের বিকল্প পথ খুলে দেন, যেন কেউ হতাশ না হয় এবং নিজেকে বঞ্চিত মনে না করে।
রমাযান মাসে উমরাহ আদায়ের অসাধারণ ফযিলত নিয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি এর প্রমাণ:
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান (রা.) নামের এক আনসারী মহিলাকে বললেন, হজ আদায় করতে তোমাকে কী বাধা দিয়েছে? তিনি বললেন, তাঁর স্বামী ছিল। কারণ দুই উটের মধ্যে একজনে হজে ব্যবহার করা হয়েছে, আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজে ব্যস্ত ছিল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “রমাযান মাসে একটি উমরাহ আদায় করা ফরজ হজ বা আমার সাথে একটি হজ আদায়ের সমান।” (বুখারি, হাদিস: ১৮৬৩)
অতএব, যারা ফরজ হজ আদায় করতে পারেননি, তারা রমাযানের পবিত্র সময়ে উমরাহর মাধ্যমে নেকির পাল্লা ভারী করার সুযোগটি হারাবেন না। আর যাদের সামর্থ্য নেই, তারা অন্তত এই হাদিস থেকে আল্লাহর দয়ার ব্যাপকতা উপলব্ধি করে নিয়ত, ইখলাস ও ইবাদতে যত্নবান হোন।
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমিন।
সিএ/জেএইচ


