মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআনের ওহি নাজিলের প্রক্রিয়া ছিল ধাপে ধাপে এবং তাৎপর্যপূর্ণ। মক্কার অবিশ্বাসীরা প্রশ্ন তুলেছিল কেন পুরো কোরআন একসঙ্গে নাজিল হয়নি। এর জবাবে কোরআনে বলা হয়েছে, যাতে নবীর অন্তর দৃঢ় হয়, সে জন্য এটি ক্রমে ক্রমে অবতীর্ণ করা হয়েছে।
২৩ বছর ধরে এই ওহি নাজিল হয় এবং প্রতিটি পর্যায় মানবজাতির পথনির্দেশনায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ওহি নাজিলের সময় নবীজি (সা.)-কে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, কখনো ওহি ঘণ্টার শব্দের মতো আসত, যা ছিল সবচেয়ে কঠিন। আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে কথা বলতেন। ওহি শেষ হলে নবীজি (সা.) তা সম্পূর্ণভাবে আত্মস্থ করতেন।
শীতের সময়েও ওহি নাজিলের পর তাঁর কপালে ঘাম দেখা যেত। শুরুতে তিনি দ্রুত মুখস্থ করার জন্য জিহ্বা নাড়াতেন, তবে পরে নির্দেশ আসে স্থির থেকে শুনতে, আর তখনই তিনি সহজেই তা মনে রাখতে পারতেন।
নবীজি (সা.) ছিলেন উম্মি, অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। এটি ছিল আল্লাহর বিশেষ পরিকল্পনা, যাতে কেউ কোরআনকে মানবসৃষ্ট বলে সন্দেহ করতে না পারে।
কোরআনের নাজিলের সময়কাল নিয়েও বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। অনেকের মতে, কদরের রাতে পুরো কোরআন প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয় এবং সেখান থেকে ধাপে ধাপে পৃথিবীতে নাজিল হয়। অন্য মত অনুযায়ী, রমজান মাসেই প্রথম ওহি নাজিলের সূচনা হয়।
নবীজি (সা.) বলেছেন, অন্যান্য নবীদের মতো তাকেও একটি বিশেষ মোজেজা দেওয়া হয়েছে, আর সেটিই কোরআন। ২৩ বছরে ধাপে ধাপে নাজিল হওয়া এই গ্রন্থ আজও অপরিবর্তিত অবস্থায় মানবজাতির জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে বিদ্যমান।
সিএ/এমআর


