ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন ছিল অত্যন্ত সরল ও অনাড়ম্বর। বিভিন্ন হাদিসে তার দৈনন্দিন জীবনের এমন বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা মানবতার জন্য শিক্ষণীয়।
আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাজ আদায়ের সময় নিজের নাতনি উমামাহকে কোলে বা কাঁধে বহন করতেন। তিনি সেজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানোর সময় আবার তুলে নিতেন। সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও সুনানে আবু দাউদে এ বর্ণনা এসেছে।
এই ঘটনাটি থেকে নবীজির (সা.) সরল জীবনযাপনের দিকটি স্পষ্ট হয়। তিনি আরবের শাসক হয়েও কোনো প্রকার জাঁকজমক বা কৃত্রিম গাম্ভীর্য ধারণ করেননি। পরিবার ও সাহাবিদের সঙ্গে তিনি স্বাভাবিক ও আন্তরিক আচরণ বজায় রেখেছিলেন।
এতে শিশুদের প্রতি তার গভীর ভালোবাসাও প্রতিফলিত হয়। তিনি শিশুকে কাঁদতে না দিয়ে নামাজের সময়ও কাছে রেখেছেন, যা তার দয়ার্দ্র মনোভাবের প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও মমত্ববোধও তুলে ধরে।
এছাড়া কন্যাসন্তানের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টিও এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। সে সময় আরব সমাজে কন্যাসন্তান অবহেলিত হলেও নবীজি (সা.) তাদের প্রতি সমান স্নেহ প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সিএ/এমআর


