ইসলামে হালাল উপার্জন ও পবিত্র রিজিক গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “আমি তোমাদের যেসব পবিত্র বস্তু (রিজিক হিসেবে) দান করেছি, তা থেকে তোমরা আহার করো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ৫৭)
তাইয়িবাত বা পবিত্র রিজিক বলতে এমন উপার্জনকে বোঝায়, যা উৎস ও পদ্ধতি উভয় দিক থেকেই শরিয়তসম্মত। হারাম উপার্জনের প্রভাব শুধু দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ইবাদত ও দোয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাসুল (সা.) সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকল, সে নিজের ধর্ম ও ইজ্জত রক্ষা করল।”
আলেমদের মতে, হারাম উপার্জন মূলত দুই ধরনের। এক ধরনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আয়ই হারাম উৎস থেকে আসে, যেমন সুদ বা ঘুষ। এ ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বা তার আহার গ্রহণ শরিয়তসম্মত নয়।
অন্যদিকে মিশ্র আয়ের ক্ষেত্রে, যেখানে হালাল ও হারাম উভয়ই রয়েছে, সেখানে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলেন, হালাল অংশ বেশি হলে লেনদেন করা যেতে পারে, আবার কেউ হারাম অংশ বেশি হলে তা পরিহার করার পরামর্শ দেন।
পরিবারের ক্ষেত্রে যদি পিতার আয়ের একটি অংশ হারাম হয়, তবে সন্তানের জন্য সেই অর্থ দিয়ে জীবনযাপন পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, বিশেষ করে যদি বিকল্প উপার্জনের সুযোগ না থাকে। তবে নিজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হলে সন্দেহযুক্ত অর্থ থেকে দূরে থাকা উত্তম।
সম্পূর্ণ হারাম আয়ের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ নয়। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার প্রয়োজন হলে সীমিত পরিমাণ গ্রহণের অনুমতি রয়েছে।
পিতার সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রেও ইসলাম ভারসাম্য বজায় রাখতে বলে। গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে পিতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা অনুমোদিত নয়, বরং নম্রতা ও সদাচরণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।
হালাল রিজিক মানুষের অন্তরে নূর সৃষ্টি করে এবং সৎকাজে উৎসাহ দেয়—এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাফসিরবিদরা। তাই একজন মুমিনের জন্য পবিত্র উপার্জনের প্রতি সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সিএ/এমআর


