ইসলামে ঋণ দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে না পারলে পাওনাদার তা মাফ করে দেন। এই মাফ করা অর্থকে জাকাত হিসেবে গণ্য করা যাবে কি না—এ নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কোরআনে ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার এবং প্রয়োজনে ঋণ মাফ করে দেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “যদি ঋণগ্রহীতা অভাবী হয়, তবে তাকে স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। আর যদি তোমরা তা সদকা (মাফ) করে দাও, তবে সেটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”
এছাড়া উত্তম ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বাড়তি সওয়াবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জাকাত হিসেবে পাওনা টাকা মাফ করার বিষয়ে অধিকাংশ আলেমের মত হলো—এভাবে জাকাত আদায় হবে না। কারণ, জাকাতের ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তর বা তামলিক হওয়া জরুরি। অর্থাৎ জাকাতের অর্থ সরাসরি গ্রহীতার হাতে পৌঁছাতে হবে।
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমদ ও ইমাম নববির মত অনুযায়ী, ঋণ মাফ করা একটি দায়মুক্তি, যা সম্পদের সরাসরি হস্তান্তরের সমতুল্য নয়। ফলে এটিকে জাকাত হিসেবে গণ্য করা যায় না।
তবে কিছু আলেম, যেমন হাসান বসরি ও আতা (রহ.), ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাঁদের মতে, যদি জাকাতের টাকা গ্রহীতাকে দিয়ে পরে সেই অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা বৈধ হয়, তবে সরাসরি ঋণ মাফ করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
অধিকাংশ আলেম যে পদ্ধতিকে নিরাপদ মনে করেন তা হলো—প্রথমে জাকাতের টাকা ঋণগ্রহীতার হাতে দেওয়া, এরপর তিনি স্বেচ্ছায় সেই অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, গ্রহীতাকে বাধ্য করা যাবে না যে তাকে সেই টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করতেই হবে। পাশাপাশি, ঋণগ্রহীতা প্রকৃত অভাবী হতে হবে এবং ব্যবসায়িক দেনার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঋণ মাফ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ হলেও ফরজ ইবাদত হিসেবে জাকাত আদায়ে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলাই অধিক নিরাপদ বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।
সিএ/এমআর


