পবিত্র কাবা শরিফের নিকটবর্তী সাফা ও মারওয়া পাহাড় ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। এই দুই পাহাড়কে মহান আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রাঙ্গণ আজ হাজিদের পদচারণায় মুখর থাকলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের এক ত্যাগের ইতিহাস। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নির্দেশনায় জনমানবশূন্য মরুভূমিতে বিবি হাজেরা ও শিশু ইসমাইলকে রেখে যাওয়ার পর শুরু হয় এই ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত।
তৃষ্ণার্ত সন্তানের জন্য পানির সন্ধানে মা হাজেরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়ান। তাঁর এই ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করতে হজ ও ওমরাহ পালনের অংশ হিসেবে সাঈ করা ওয়াজিব করা হয়েছে।
দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৪৫০ মিটার, যা সাতবার অতিক্রম করলে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। সাঈ করার সময় নির্দিষ্ট স্থানে পুরুষদের দ্রুত চলার বিধান রয়েছে, যা সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করে।
বর্তমানে সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় এই প্রাঙ্গণ আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করা হয়েছে। তবুও মূল পাহাড়ের অংশ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, যাতে ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন থাকে।
সাফা ও মারওয়ার সাঈ কেবল শারীরিক পরিশ্রম নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ধৈর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সিএ/এমআর


