ইসলামের সূচনাকালে বিশ্বে প্রধান দুটি শক্তি ছিল রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য। এর মধ্যে পারস্য সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল আধুনিক ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার বিশাল অঞ্চজুড়ে। এই পারস্য সাম্রাজ্যই পরবর্তীতে মুসলিম বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়।
ইসলামের শুরু থেকেই পারস্যের সঙ্গে মুসলমানদের একটি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ছিল। ধর্মীয় পার্থক্য, কোরআনের ভবিষ্যদ্বাণী এবং পারস্য সম্রাটের সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর সম্পর্কের কারণে এই দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়। তবে নবীজির জীবদ্দশায় সরাসরি কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি।
খলিফা আবু বকর (রা.)-এর সময় মুসলিম বাহিনী পারস্যের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। সে সময় সাসানীয় সাম্রাজ্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
মুসলিম সেনাপতি মুসান্না বিন হারিস (রা.) প্রাথমিক বিজয়ের সূচনা করেন। পরবর্তীতে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর নেতৃত্বে ইরাক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য আসে।
খলিফা ওমর (রা.)-এর শাসনামলে পারস্য বিজয়ের মূল অভিযান পরিচালিত হয়। সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর নেতৃত্বে ১৪ হিজরিতে কাদেসিয়ার ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে সংখ্যায় কম হলেও মুসলিম বাহিনী বিজয় অর্জন করে।
এই যুদ্ধের মাধ্যমে পারস্য সাম্রাজ্যের শক্ত ভিত্তি ভেঙে পড়ে। এরপর ১৬ হিজরিতে মুসলিম বাহিনী পারস্যের রাজধানী মাদায়েন জয় করে, যা সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত করে।
চূড়ান্ত ধাক্কা আসে ২১ হিজরিতে নেহাবন্দের যুদ্ধে। এই যুদ্ধকে ‘বিজয়ের বিজয়’ বলা হয়। এর মাধ্যমে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন নিশ্চিত হয় এবং মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে পারস্য সম্রাট ইয়াজদিগার্দ পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হন এবং শেষ পর্যন্ত নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে ইরান বিজয়ের অধ্যায় সম্পন্ন হয়।
সিএ/এমআর


