স্বাধীনতা ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, যা কেবল আধ্যাত্মিক নয়, বরং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিসরেও বিস্তৃত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, যার প্রতিফলন দেখা যায় মদিনা রাষ্ট্রে।
মদিনায় হিজরতের পর তিনি একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা ‘মদিনার সনদ’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে মদিনাকে একটি নিরাপদ ও স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সনদের অন্যতম ধারা ছিল, “মদিনার ওপর কোনো বহিঃশত্রু আক্রমণ করলে মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।” এই নীতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে স্বাধীনতা রক্ষার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
মহানবী (সা.) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত ছোট ছোট দল প্রেরণ করতেন। বদর, ওহুদ ও খন্দকের মতো যুদ্ধে তাঁর কৌশল ছিল সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর।
বিশেষ করে খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের কৌশল আরব অঞ্চলে এক নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। একইসঙ্গে কূটনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পাদন করে তিনি মদিনা রাষ্ট্রকে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখেন। একইসঙ্গে নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করেন।
তিনি দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ, আমাদের কাছে মদিনাকে প্রিয় করে দিন, যেমন আমরা মক্কাকে ভালোবাসি, অথবা তার চেয়েও বেশি।”
এই কৌশলগুলো প্রমাণ করে, স্বাধীনতা রক্ষায় প্রজ্ঞা, ঐক্য এবং দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


