জীবনের নানা সময়ে মানুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যা তার প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না। তখন হতাশা ও অস্থিরতা মনে ভর করে। কেন এমন হলো বা অন্যভাবে হলে ভালো হতো—এমন চিন্তা মানুষকে আরও উদ্বিগ্ন করে তোলে।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এমন অবস্থায় আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির মেনে নেওয়া এবং তাঁর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে মানসিক প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব হয়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের উপর লড়াই ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের অপছন্দনীয় হতে পারে। আবার তোমরা যা অপছন্দ করো, তাতেই থাকতে পারে কল্যাণ। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৬)
এই বাণী মানুষের মধ্যে আস্থা ও ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখলে ‘যদি’ ও ‘কেন’ ধরনের প্রশ্ন থেকে মুক্ত থাকা সহজ হয়, যা মানসিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাকদির মেনে নেওয়ার মাধ্যমে মানুষ বর্তমান বাস্তবতাকে গ্রহণ করতে শেখে এবং ধৈর্যের চর্চা করতে পারে। এতে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হয়।
তবে বাস্তবে অনেকেই কঠিন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেন না। প্রত্যাশা অনুযায়ী ঘটনা না ঘটলে হতাশা, রাগ বা মানসিক চাপ তৈরি হয়। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, এসব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই উত্তম পথ।
জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর বিশ্বাস রাখা এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি ও স্থিরতা।
সিএ/এমআর


