পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ করা প্রত্যেক মুমিনের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। পবিত্র কোরআনে এই মুক্তিকে ‘জুহজিহা’ শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যার অর্থ দ্রুত টেনে দূরে সরিয়ে নেওয়া।
অর্থাৎ হাশরের ময়দানে যাকে জাহান্নামের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, সেই প্রকৃত সফল।
এই মুক্তির উপায় সম্পর্কে অনেকেই মনে করেন কেবল নামাজ, রোজা, জাকাত বা হজই যথেষ্ট। তবে হাদিসে দেখা যায়, মানুষের সঙ্গে আচরণও মুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হোক এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে সে আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে। আর সে মানুষের সঙ্গে তেমন আচরণই করে, যেমন আচরণ সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৪)
এই হাদিসে দুটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে—সঠিক বিশ্বাস এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ।
ইসলাম সামাজিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করেছে, তা হলো নিজের জন্য যা পছন্দ, অন্যের জন্যও তা পছন্দ করা।
মানুষ চায় অন্যরা তার সঙ্গে সত্য কথা বলুক, বিপদে পাশে থাকুক এবং ন্যায্য আচরণ করুক। তাই পরকালের মুক্তি পেতে হলে অন্যের সঙ্গে ঠিক একই আচরণ করা প্রয়োজন।
শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতই নয়, বরং সততা, আমানতদারি ও সহানুভূতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের অধিকার নষ্ট হলে কেবল ইবাদত দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।
ইবাদত ও আচরণের এই সমন্বয়ই প্রকৃত সফলতার পথ।
সিএ/এমআর


