ইসলামে ইবাদতের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মানুষের বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গাছপালা, পানি, বায়ু, প্রাণীজগৎসহ চারপাশের সবকিছুকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং এতে পর্বতমালা সৃষ্টি করেছি। আমি পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তু সুপরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছি। এতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও, তাদের জন্যও। প্রতিটি বস্তুর ভান্ডার আমার কাছে রয়েছে। আমি তা প্রয়োজনীয় পরিমাণে সরবরাহ করে থাকি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু প্রেরণ করি। এরপর আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করি। তা তোমাদের পান করতে দিই। এর ভান্ডার তোমাদের কাছে নেই।’ (সুরা হিজর : ১৯-২২)।
ইসলাম পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়-পর্বত, বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস না করার নির্দেশ দিয়েছে। পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য এবং এগুলোর ক্ষতি করলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়।
আরও বলা হয়েছে, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। এরপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছে আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে (মেঘমালাকে) স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও যে, তার মধ্য থেকে বৃষ্টিধারা নির্গত হয়। তিনি (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছে তা (বৃষ্টি) পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।’ (সুরা রুম : ৩৮)।
রাসুল (সা.) পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং অপচয় থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পরিবেশের ক্ষতি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মানুষের জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয়, বিনাশ বা অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইসলামের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


