মানুষের মধ্যে আনন্দ প্রকাশ বা কাউকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য তালি দেওয়া বা শিস বাজানোর প্রবণতা দেখা যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে এসব আচরণকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর কাবা শরীফের নিকট তাদের (মক্কার কাফের-মুশরেক) উপাসনা বলতে শিস আর তালি বাজানো ছাড়া অন্য কোনো কিছুই ছিল না। অতএব, এবার তোমরা তোমাদের কৃত কুফরির আজাবের স্বাদ গ্রহণ করো।’ -সূরা আনফাল: ৩৫
এই আয়াতে শিস দেওয়া ও তালি বাজানোকে কাফের-মুশরেকদের উপাসনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে তারা কাবা তাওয়াফের সময় এসব কাজ করত এবং একে ইবাদত মনে করত।
ইসলামি স্কলারদের মতে, এ কারণে তালি দেওয়া ও শিস বাজানোকে তাদের সংস্কৃতির অনুকরণ হিসেবে দেখা হয়, যা মুসলমানদের জন্য পরিহারযোগ্য।
শায়খ বিন বায (রহ.) বলেন, ‘কোনো উৎসব, অনুষ্ঠান বা উৎযাপনকে কেন্দ্র করে তালি বাজানো জাহেলি প্রথা। অনেকেই একে মাকরূহ বলে থাকলেও আসলে দলিলের আলোকে হারাম। কেননা এতে কাফেরদের সাদৃশ্য আছে, আর মুসলমানদেরকে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে। মুমিনদের জন্য সুন্নত হলো, যখন তারা ভালো কিছু দেখবে বা শুনবে, তখন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, যা একাধিক হাদিস থেকে প্রমাণিত।’
শায়খ উছায়মিন (রহ.) বলেন, ‘কাউকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য তালি বাজানো পূর্ববর্তী আলেমদের কোনো আদর্শ নয়। কোনো বিষয়ে মুগ্ধ হলে তারা ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন, তাও আবার নিম্নস্বরে একা একা, ঐক্যবদ্ধভাবে চিৎকার করে বলতেন না।’
ইসলাম মানুষকে শালীনতা ও সংযম বজায় রেখে আনন্দ প্রকাশের শিক্ষা দেয়। তাই বিকল্প হিসেবে জিকিরের মাধ্যমে আনন্দ বা প্রশংসা প্রকাশের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


