ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম জাকাত, যা কেবল ধর্মীয় বিধান নয় বরং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইসলামী শিক্ষায় জাকাতের মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা ও সমাজে ভারসাম্য রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
‘জাকাত’ শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। অর্থাৎ জাকাত প্রদান করলে সম্পদ যেমন পবিত্র হয়, তেমনি সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখে। পবিত্র কুরআনে নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
ইসলামের ইতিহাসে হিজরী দ্বিতীয় বর্ষে জাকাত ফরজ করা হয়। নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর এই বিধান কার্যকর হয়। তবে পূর্ববর্তী নবীদের সময়েও জাকাতের প্রচলন ছিল বলে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাকাত কেবল দান নয়; এটি একটি নির্দিষ্ট হিসাবের ভিত্তিতে সম্পদের অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টনের একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। জাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করা।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জাকাত হিসেবে কাপড় বা অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়। তবে অর্থ আকারে জাকাত প্রদান করলে উপকারভোগীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করতে পারেন।
জাকাত হিসাব করার ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী চন্দ্র বছরের হিসাব ধরে জাকাত নির্ধারণ করা হয়। অনেকেই সৌর বছরের হিসাব ব্যবহার করায় প্রকৃত হিসাবের তুলনায় কিছুটা কম জাকাত প্রদান হয়ে যায়।
সাধারণভাবে জাকাতের হার নির্ধারিত হয়েছে শতকরা আড়াই ভাগ। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় ধরে হিসাব করে জাকাত প্রদান করলে এটি সঠিকভাবে আদায় করা সহজ হয়।
সবশেষে বলা যায়, জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা সমাজে দারিদ্র্য হ্রাস ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


