দীর্ঘ সংঘাত ও ধ্বংসের মধ্যেও গাজার মানুষের মনোবল ভাঙেনি—তারই এক প্রতীক হয়ে উঠেছে কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর যুদ্ধের শব্দের মাঝেও ধর্মীয় চর্চা অব্যাহত রেখেছেন স্থানীয়রা।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মসজিদে সম্প্রতি একত্রিত হন শতাধিক হাফেজ। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা কোরআন তেলাওয়াতের এই আয়োজন স্থানীয়দের কাছে এক অনন্য বার্তা বহন করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৫১ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-কিরানাউই বলেন, ‘কোরআনই আমার সারজীবনের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া বা মসজিদ ধ্বংস হওয়া কোনো কিছুই আমাকে তেলাওয়াত থেকে দূরে রাখতে পারেনি। আজ আমি এখানে এসেছি আমার হারানো দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তে পাওয়া এই মহিমান্বিত উপহারকে হৃদয়ে ধরে রাখতে।’
একই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিশোর আবদুর রহমান আবু নিমর জানায়, ‘ইসরায়েলি হামলায় আমি আমার বাড়ি, চাচা এবং অনেক বন্ধুদের হারিয়েছি। কিন্তু এই তেলাওয়াতের আসর আমাকে সেই শোক ভোলার শক্তি দেয়।’
গাজার ধর্ম বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের ফলে অধিকাংশ মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও অস্থায়ী স্থাপনায় ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা।
এই আয়োজনকে আয়োজকেরা আধ্যাত্মিক প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বসতভিটা ধ্বংস হলেও মানুষের বিশ্বাস ও মনোবল অটুট রয়েছে।
সিএ/এমআর


