খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো কুড় মসজিদ এখন ধ্বংসের মুখে। ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ইসলামি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত এই মসজিদটি বহু দর্শনার্থীর আকর্ষণের কেন্দ্র। বছরজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসেন এবং নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিশেষ আবহ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় তারা নিজেরা কোনো সংস্কার কাজ করতে পারছেন না। ফলে বছরের পর বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে স্থাপনাটি।
স্থাপত্যশৈলীতে সমৃদ্ধ মসজিদটির চার কোণে গোলাকার মিনার রয়েছে। বাইরের দেয়ালে পোড়ামাটির কারুকাজ, পদ্মফুল, মালা ও অন্যান্য নকশা দেখা যায়। অভ্যন্তরে রয়েছে পাথরের স্তম্ভ, যা প্রাচীন নির্মাণশৈলীর নিদর্শন বহন করে।
সময়ের সাথে সাথে মসজিদের দেয়ালের আরবি লেখা অস্পষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং লোহার অংশে মরিচা ধরেছে। আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে বাইরের অংশও।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যথাযথ উদ্যোগ নিলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
মসজিদের ইমাম মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জ্বালানার গ্রিলেও মরিচা ধরেছে। মসজিদের দেয়ালে আরবি হরফে লেখাও এখন অস্পষ্ট। কিন্তু এটিকে সংস্কার করা হচ্ছে না। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ২০২২ সালে সাংস্কৃতিক মন্ত্রালয়ের বরাদ্ধে কিছু কাজ করা হলেও কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।’
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মসজিদটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমআর


