ইসলামে রোজা শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে পাপ থেকে বিরত রাখার শিক্ষা দেয়। এর মধ্যে চোখের সংযম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
মানুষের দৃষ্টি তাকে সঠিক পথ দেখাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি ভুল দিকেও পরিচালিত করতে পারে। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে চোখের মাধ্যমে পাপের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন, “মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” (সুরা নুর, আয়াত: ৩০)
লক্ষ্যণীয় যে, এখানে দৃষ্টি সংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি মানুষকে বড় ধরনের গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
দৃষ্টির অপব্যবহারের মধ্যে রয়েছে অন্যের দোষ খোঁজা, হিংসা করা, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখা এবং অশ্লীলতার দিকে আকৃষ্ট হওয়া। এসব আচরণ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রতিটি অঙ্গের মাধ্যমে ‘জিনা’ (ব্যভিচার) সংঘটিত হতে পারে, আর চোখের জিনা হলো হারাম দৃষ্টি…।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৪৩)
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট থেকে দূরে থাকতে সচেতনতা ও আত্মসংযম প্রয়োজন।
রমজানের মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন। তাই শুধু বাহ্যিক রোজা নয়, চোখসহ সব অঙ্গকে সংযত রাখাই পূর্ণাঙ্গ রোজার অংশ।
সিএ/এমআর


