ইসলামে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। সাধারণত ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে ফিতরা আদায়ের উত্তম সময় হিসেবে ধরা হয়। তবে গরিব মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঈদের চাঁদ দেখার আগেও ফিতরা প্রদান করা যেতে পারে।
হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসুল (সা.) সদাকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন, রোজাদারকে অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে তা আদায় করবে তার জন্য তা মাকবুল সদকা হবে। আর নামাজের পর আদায় করলে তা অন্যান্য সদকার মতো হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯)
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির ভাই-বোন বা অন্যান্য নিকটাত্মীয় যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাদের সদাকাতুল ফিতর দেওয়া যেতে পারে। তবে পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, সন্তান বা নাতি-নাতনির মতো যাদের ভরণপোষণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়।
যাকাত বা সদকা গ্রহণের উপযুক্ত হওয়ার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা এর সমপরিমাণ মূল্যমানের অতিরিক্ত সম্পদ না থাকা।
তবে ভাই-বোনকে ফিতরা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। যদি পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং ফিতরার অর্থ যৌথভাবে ব্যয় করা হয়, তাহলে তা মাকরুহ হতে পারে। তাই ফিতরা প্রদান করার সময় গ্রহণকারীকে বলে দেওয়া উচিত যে, সে যেন এই অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করে।
সিএ/এমআর


