ইসলামি শরিয়তে শবে কদর বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত হিসেবে বিবেচিত। ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান, মর্যাদা বা মহিমা। আরবি ভাষায় এই রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতেই মানুষের ভাগ্য ও তকদির নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র এই রাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান। ইসলামি আলেমরা বলেন, এই রাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল রয়েছে, তেমনি কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকাও জরুরি।
শবে কদরের করণীয় আমলের মধ্যে রয়েছে সূর্যাস্তের পর থেকেই ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। মাগরিবের নামাজের পর নফল নামাজ আদায় করা এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা এ রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
এ ছাড়া আল্লাহর স্মরণে বেশি বেশি জিকির-আজকার করা এবং দরুদ শরিফ পাঠ করাও এই রাতের বিশেষ আমল হিসেবে বিবেচিত। অতীতের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও আলেমরা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন।
মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করাও এই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যদি কেউ কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি বেশি বেশি দান-সদকা করা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাও উৎসাহিত করা হয়।
অন্যদিকে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবহেলায় রাত কাটিয়ে দেওয়া, শুধু ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা কিংবা আলসেমি করে ইবাদত না করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মানুষের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা, আতশবাজি বা গোল্লা না ফোটানো এবং দলবেঁধে আড্ডা বা হৈ-হুল্লোড়ে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ রাতে যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
সিএ/এমআর


