রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল হিসেবে বিবেচিত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের আশায় অনেক মুসলমান এই সময়ে মসজিদে অবস্থান করে ইতিকাফ পালন করেন।
ইতিকাফের সময় ইবাদতে মনোনিবেশ করা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ইতিকাফ অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার জানাজার নামাজে অংশ নিতে মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে কি না।
ফুকাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইতিকাফকারী সাধারণভাবে জানাজার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন না। তবে যদি কেউ স্বাভাবিক প্রয়োজন যেমন প্রস্রাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে যান এবং সেই যাতায়াতের পথে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বিলম্ব না করে সেখানে অংশ নেওয়া যেতে পারে। (রদ্দুল মুখতার : ৩/৪৩৫)
ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কেউ যদি একদিন ইতিকাফ করেন, তাহলে আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝখানে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (আল-মুজামুল আওসাত লিত-তবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৩৫১-৩৫২; শুআবুল ঈমান ৩/৪২৫, হাদিস: ৩৯৬৫)
ইতিকাফ শুধু পুরুষদের জন্য নয়, নারীদের জন্যও এই ইবাদতের বিধান রয়েছে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন করেছেন।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীগণও ইতিকাফ পালন করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ২০৩৬; মুসলিম, হাদিস: ১১৭২)
সিএ/এমআর


