ইসলামে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানদের জন্য এটি আদায় করা ফরজ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দান-সদকা ও ইবাদতের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের বিষয়টি মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অনেকেই এই সময় জাকাত আদায়ে সচেষ্ট হন।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সব ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না। নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ওপরই জাকাত দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা-রুপা, নগদ অর্থ, নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পালিত পশু এবং ব্যবসার পণ্য। এসব সম্পদের পরিমাণ নির্ধারিত নিসাব অতিক্রম করলে এবং নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে জাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী সোনা-রুপার অলংকার ব্যবহৃত হোক বা অব্যবহৃত থাকুক—সব অবস্থাতেই তার ওপর জাকাত দিতে হয়। (সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫) একইভাবে অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীতেও জাকাত ফরজ হয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭০৬১)
যদি কোনো পোশাক বা সামগ্রীর মধ্যে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকে, তাহলে সেই অংশের সোনা-রুপার মূল্যও জাকাতের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যান্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে তারও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৬৬)
তবে সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকারের ওপর জাকাত ফরজ নয়। একইভাবে হিরা, মণি-মুক্তা বা অন্যান্য মূল্যবান পাথর ব্যবসার পণ্য না হলে সেগুলোর ওপরও জাকাত দিতে হয় না। (কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪)
মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত যে অর্থ সঞ্চিত থাকে, তা নিসাব পরিমাণে পৌঁছালে এবং এক বছর অতিক্রান্ত হলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২) ব্যাংকে জমা অর্থ, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড বা বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এছাড়া কোনো অর্থ ব্যবসায় ব্যবহার না করে দীর্ঘদিন ধরে জমা করে রাখলেও সেই অর্থের ওপর জাকাত দিতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/২৬৭)
অনেক সময় হজ পালন, ঘরবাড়ি নির্মাণ বা ছেলে-মেয়ের বিয়ের মতো ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা হয়। যদি সেই সঞ্চিত অর্থ নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং এক বছর অতিক্রান্ত হয়, তাহলে তার ওপরও জাকাত ফরজ হয়ে যায়। তবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই অর্থ খরচ হয়ে গেলে জাকাত ফরজ হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস : ৭০৩২)
দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে যে পণ্য রাখা হয়, তা বাণিজ্য-দ্রব্য হিসেবে গণ্য হয়। এসব পণ্যের মোট মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ। (সুনানে আবু দাউদ : ১/২১৮)
ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা জমি, ফ্ল্যাট, কাপড়, মুদি সামগ্রী, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, যানবাহন, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক পণ্য বা বইপুস্তক—সবই বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব সম্পদের মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে সেগুলোর ওপরও জাকাত আদায় করতে হয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস : ৭১০৩,৭১০৪)
সিএ/এমআর


