ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে আরবি বারো মাসের মধ্যে রমজান মাসের গুরুত্ব সর্বাধিক। এই মাসজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। আধ্যাত্মিক অনুশীলন, আত্মসংযম এবং ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে এই মাসটি মুসলিম সমাজে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
রমজানকে অনেকেই আমল ও ইবাদতের বসন্তকাল বলে উল্লেখ করেন। এই মাসে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির এবং অন্যান্য ইবাদতে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন।
রমজান মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পুরো মাসজুড়ে রোজা পালন করা ফরজ। ইসলামে অন্য কোনো মাসে এভাবে ধারাবাহিকভাবে ফরজ রোজা পালনের বিধান নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের মানুষের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)।
এই মাসের সঙ্গে পবিত্র কোরআনেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, রমজান মাসেই কোরআন নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস- যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য, পথনির্দেশের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)।
রমজানে তারাবি নামাজ মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে তারাবি নামাজ আদায় করেন এবং কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাতগুলো আধ্যাত্মিক পরিবেশে ভরে ওঠে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোজা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবি নামাজ সুন্নত করেছি। যে রমজানে ইমান এবং সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে ও তারাবি নামাজ পড়বে, সে তার সব গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে, যেভাবে একটি শিশু নিষ্পাপ অবস্থায় জন্মায়।’ (সুনানে নাসায়ি, পৃষ্ঠা : ২৩৯)।
রমজান মাস দান-সদকার জন্যও বিশেষভাবে উৎসাহিত করে। মুসলমানরা এ সময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তানরা, তোমরা অকাতরে দান করতে থাকো, আমিও তোমাদের ওপর ব্যয় করব। নবী (সা.) আরও বলেন, আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। রাত দিন অনবরত ব্যয় করলেও তা মোটেই কমছে না।’ (মুসলিম : ২১৯৮)।
রমজানের শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর, যা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাত। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ কদরের রজনীতে। আপনি কি জানেন, সে মহিমাময় রাত কী? মহিমান্বিত ওই রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সুরা কদর : ১-৩)।
এসব ধর্মীয় অনুশাসন ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কারণে রমজান মাস মুসলিমদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় হয়ে উঠেছে। এই মাস বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের এক অনন্য বন্ধনে যুক্ত করে এবং তাদের ধর্মীয় চেতনা আরও গভীর করে তোলে।
সিএ/এমআর


