ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দ ও ইবাদতের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই ঈদকে ঘিরে আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি সংযম, শালীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামি শিক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঈদ সামনে এলেই বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়ে। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এই কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সংযমী আচরণ এবং ধর্মীয় বিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেনাকাটার ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় মানুষ নামাজের সময় উপেক্ষা করে বা বিলম্ব করে ফেলে। অথচ এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সতর্কবার্তা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের পরে এলো অপদার্থ পরবর্তীরা, তারা নামাজ নষ্ট করল ও লালসার বশবর্তী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।’ (সুরা মারইয়াম : ৫৯)।
ইসলামে পর্দা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান হিসেবে বিবেচিত। ঈদের কেনাকাটার সময় অনেক মার্কেটে নারী-পুরুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এ সময় অনেকেই অজান্তে বা অবহেলায় পর্দার বিধান যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মোমিনদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।’ (সুরা নুর : ৩০)।
ঈদের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করার বিষয়েও ইসলাম সতর্ক করেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আত্মীয়-স্বজনকে দেবে তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না। যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)।
এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ঋণ নিয়ে কেনাকাটা করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম সামর্থ্যের মধ্যে থেকে ব্যয় করার ওপর গুরুত্ব দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কারও ওপর এমন কোনো কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত।’ (সুরা বাকারা : ২৮৬)।
ঈদের বাজারে ব্যবসায়িক সততার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, নিম্নমানের পণ্য উচ্চমূল্যে বিক্রি কিংবা প্রতারণামূলক লেনদেন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিমাপ ও ওজন কর, মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু থেকে কম দিও না।’ (সুরা হুদ : ৮৫)।
এ ছাড়া ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা এবং সদকাতুল ফিতর যথাযথভাবে আদায় করার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে বলে ইসলামি শিক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।
সিএ/এমআর


