ইসলামে আত্মহত্যাকে গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষকে আত্মহত্যা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, তোমরা নিজেরা নিজদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু। সুরা নিসা ২৯
ইসলামি শিক্ষায় আত্মহত্যা এমন একটি কাজ, যা মানুষের আল্লাহর ওপর ভরসা ও তাঁর রহমতের প্রতি আশা হারানোর প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই কারণেই এটিকে বড় গুনাহ বা মহাপাপ হিসেবে দেখা হয়।
আলেমদের মতে, আত্মহত্যার মাধ্যমে একজন মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটে এমন এক অবস্থায়, যখন সে একটি বড় পাপের মধ্যে থাকে এবং এরপর আর তার পক্ষে তওবা বা ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে না। ফলে এই পাপের পরিণতি আখিরাতে ভয়াবহ হতে পারে।
বিভিন্ন হাদিসে আত্মহত্যার কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যাক্তি কোন ধারাল অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে অস্ত্র তার হাতে থাকবে, জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দিয়ে সে তার পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি বিষপানে আত্নহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে ওই বিষ পান করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি নিজেকে পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে আত্নহত্যা করবে, সে ব্যাক্তি সব সময় পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে, এভাবে সে ব্যাক্তি সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। সহিহ মুসলিম ১০৯
আরেকটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, হাসান বসরি রহ. বলেন, জুনদুব রা. এ মসজিদে আমাদের একটি হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির শরীরে জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। সহিহ বুখারি ১৩৬৪
তবে আলেমদের অনেকের মতে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি মহাপাপী হলেও তাকে অবিশ্বাসী বলা হয় না এবং সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে—এমনও নিশ্চিত নয়। আল্লাহ চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন, আবার দয়া করে ক্ষমাও করতে পারেন।
সিএ/এমআর


