ইসলামে আত্মহত্যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটিকে গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, আত্মহত্যা মানুষের জন্য মারাত্মক অপরাধ এবং এর জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, জুনদুব (রা.) মসজিদে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির শরীরে গুরুতর জখম ছিল এবং সে আত্মহত্যা করে। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
আরেকটি হাদিসে আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে সেই অস্ত্র দিয়েই নিজেকে আঘাত করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে সেই বিষই পান করতে থাকবে। একইভাবে কেউ যদি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে, তবে সে জাহান্নামের আগুনে বারবার পতিত হতে থাকবে। সহিহ মুসলিমে এই বর্ণনা উল্লেখ রয়েছে।
সাবেত ইবনে যাহহাক (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি যে পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই পদ্ধতিতেই শাস্তি দেওয়া হবে।
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, আত্মহত্যা একটি গুরুতর পাপ এবং পরজীবনে এর জন্য কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা রয়েছে।
তবে ইসলামী আকিদা অনুযায়ী আত্মহত্যা কুফর নয়। কোনো মুসলিম ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে সে ফাসেক হিসেবে গণ্য হবে, কাফের নয়। যদি মৃত্যুর সময় তার অন্তরে ঈমান থাকে, তবে সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে না। শাস্তি ভোগের পর আল্লাহ তাআলা চাইলে তাকে মুক্তি দিতে পারেন।
আত্মহত্যাকারীর জন্য দোয়া করা এবং তার জানাজা আদায় করা সম্পর্কেও ইসলামে আলোচনা রয়েছে। ইবরাহিম নাখঈ (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া যাবে কি না। তিনি বলেন, তার জানাজা পড়া সুন্নাহ এবং নবীজি (সা.) ও সাহাবীদের যুগ থেকেই এ রীতি চলে আসছে।
তবে আলেমদের মতে, সমাজে আত্মহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরার জন্য অনেক সময় বড় আলেম বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এমন জানাজায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আরেক বর্ণনায় জাবের ইবনে সামুরা (রা.) থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তি ধারালো বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করলে তার ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, আমি তার জানাজা পড়ব না। আস-সুনানুল কুবরা লিন-নাসাঈ গ্রন্থে এই বর্ণনা পাওয়া যায়।
সিএ/এমআর


