রোজা অবস্থায় চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে ইনজেকশন বা ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি না—এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা দেখা যায়। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা রেখে ইনজেকশন নেওয়া বৈধ এবং এতে রোজা নষ্ট হয় না।
একইভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণ করলেও রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। অর্থাৎ চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে এসব গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
তবে কেউ যদি ইনজেকশন বা ইনসুলিন নেওয়ার পর ভুলভাবে মনে করেন যে তার রোজা ভেঙে গেছে এবং সেই ধারণা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খেয়ে ফেলেন, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে ভুল ধারণা থেকে এমনটি ঘটলে কাফফারা ওয়াজিব হবে না, শুধু ওই দিনের রোজা কাজা করতে হবে।
রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। (সুরা বাকারা: ১৮৩)
তাই রোজার সময় প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভুল ধারণা বা অজ্ঞতার কারণে রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
যে সব কারণে রোজা ভেঙে যায়
১. কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের দিনের বেলায় পানাহার বা যৌনমিলন করে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে কাজা ও কাফফারা দুটিই আদায় করতে হবে।
২. নারীদের মাসিক বা সন্তান প্রসবের পরবর্তী ঋতুস্রাবের সময় রোজা রাখা নিষিদ্ধ। রোজা অবস্থায় মাসিক শুরু হলে বা সন্তান জন্ম নিলে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে তা কাজা করতে হবে।
৩. ইচ্ছা করে বমি করলে রোজা ভেঙে যাবে। বমি মুখে এসে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললেও রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা করতে হবে।
৪. রমজানের দিনে ইসলাম ত্যাগ করলে বা মুরতাদ হয়ে গেলে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করলে সেই রোজা কাজা করতে হবে।
৫. কুলি করার সময় অনিচ্ছায় পানি গলায় চলে গেলে, রাত বাকি আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে বা সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে আগে ইফতার করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।
৬. রোজা থাকার কথা ভুলে গিয়ে কিছু খেলে রোজা ভাঙবে না। তবে পরে রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার খেলে রোজা ভেঙে যাবে।
৭. দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলার সমান বা বড় কিছু বের করে খেলে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা করতে হবে।
৮. প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করালে অথবা কান ও নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা করতে হবে।
সিএ/এমআর


