১৪৪৭ হিজরি সনের ১৪ রমজান দিবাগত রাতে দেশের মসজিদগুলোতে ইশার নামাজের পর ১৫তম দিনের তারাবির নামাজ আদায় করা হবে। এদিন তারাবির নামাজে পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর পারা তিলাওয়াত করা হবে বলে জানা গেছে।
কোরআনের এই অংশে সুরা মুমিনুন, সুরা নূর এবং সুরা ফুরকানের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব আয়াতে মুমিনদের জীবনযাপন, নৈতিকতা ও সামাজিক আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা মুমিনুনের শুরুতেই আল্লাহ তাআলা জান্নাতপ্রাপ্ত মুমিনদের বিভিন্ন গুণাবলি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত। যারা অনর্থক কথা ও কাজ এড়িয়ে চলে। যারা জাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত। এদের অতিরিক্ত যারা কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। আর যারা নিজেদের আমানাত ও ওয়াদা পূর্ণ করে। যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে যত্নবান। তারাই হবে অধিকারী। অধিকারী হবে ফিরদাউসের, যাতে তারা বসবাস করবে চিরকাল। (সুরা মুমিনুন: ১-১১)
এই আয়াতগুলোতে মুমিনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মনোযোগ ও বিনয়ের সঙ্গে নিয়মিত নামাজ আদায় করা, অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত জাকাত প্রদান করা, চরিত্র সংযত রাখা এবং আমানত ও প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে রক্ষা করা।
এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। মানুষকে আল্লাহর বিধান মেনে চলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এবং সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো ত্রুটি হলে আল্লাহ ক্ষমাশীল।
এ বিষয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, আর আমি কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব দেই না। আমার নিকট আছে এমন কিতাব যা সত্য কথা বলে এবং তারা অত্যাচারিত হবে না। (সুরা মুমিনুন: ৬২)
অন্যদিকে সুরা নূরে মুমিন নারী ও পুরুষদের জন্য দৃষ্টি সংযত রাখা এবং নিজেদের চরিত্র হেফাজত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিন পুরুষদের বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা নূর: ৩০, ৩১)
সিএ/এমআর


