ইসলামের ইতিহাসে ১৫ রমজান দিনটি নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে পরিচিত। এই দিনে যেমন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর দৌহিত্র হজরত হাসান রা.-এর জন্ম হয়েছিল, তেমনি বিশ্ব ইতিহাসেও এ দিনটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
ইসলামি ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ৩ হিজরির ১৫ রমজান, অর্থাৎ ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন হজরত হাসান ইবনে আলি রা.। তিনি ছিলেন হজরত আলি রা. ও হজরত ফাতিমা রা.-এর সন্তান এবং মহানবী সা.-এর অত্যন্ত স্নেহভাজন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
মহানবী সা. তাঁর প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করতেন এবং তাঁর জন্য ‘আবু মুহাম্মদ’ উপাধি নির্ধারণ করেছিলেন। নবীজি তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই আমার এই সন্তান একজন সরদার; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে আপস করিয়ে দেবেন।”
ইতিহাসে উল্লেখ আছে, ৪১ হিজরিতে হজরত হাসান রা. মুসলিম উম্মাহর মধ্যে রক্তপাত বন্ধের লক্ষ্যে মুয়াবিয়া রা.-এর অনুকূলে খেলাফত ত্যাগ করেন। ফলে মুসলিম সমাজে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।
১৫ রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো আইন জালুতের যুদ্ধ। ৬৫৫ হিজরিতে বাগদাদ ধ্বংসের পর মঙ্গোল বাহিনী যখন বিশ্বজয়ের পথে এগোচ্ছিল, তখন মিসরের মামলুক শাসকরা তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর প্রস্তুতি নেয়।
৬৬৮ হিজরির ১৫ রমজান, অর্থাৎ ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দে ফিলিস্তিনের আইন জালুত এলাকায় সুলতান সাইফ উদ্দিন কুতুজের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিজয় মঙ্গোলদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয় এবং বিশ্বসভ্যতাকে বড় ধরনের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
এই যুদ্ধে সুলতান কুতুজের পাশাপাশি জেনারেল বাইবার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের কৌশলগত নেতৃত্বে মঙ্গোল বাহিনী প্রথম বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে।
১৫ রমজানের ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো আন্দালুসে উমাইয়া শাসনের সূচনা। ১৩৮ হিজরির ১৫ রমজান, অর্থাৎ ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া রাজপরিবারের সদস্য আব্দুর রহমান আদ-দাখিল মরক্কো থেকে সমুদ্রপথে আন্দালুসে প্রবেশ করেন।
পরবর্তীতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি কর্ডোভায় স্বাধীন উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই শাসনব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া ৫৮৪ হিজরির ১৫ রমজান, অর্থাৎ ১১৮৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে সাফাদ দুর্গ ক্রুসেডারদের কাছ থেকে পুনর্দখল করেন। এই বিজয় ফিলিস্তিনে মুসলিমদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে এবং ক্রুসেডারদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।
আধুনিক ইতিহাসেও ১৫ রমজান একটি বেদনাদায়ক ঘটনার স্মারক। ১৪১৪ হিজরির ১৫ রমজান, অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ সালে ফিলিস্তিনের হেব্রনে অবস্থিত পবিত্র ইব্রাহিমি মসজিদে ফজরের নামাজের সময় হামলা চালানো হয়। এতে ২৯ জন মুসল্লি নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।
সিএ/এমআর


