ইসলামে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এটি রোজার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ঈদুল ফিতরের আগে আদায় করতে হয়। বাংলাদেশে চলতি বছর ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় যদি কারও কাছে জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়। নিসাব বলতে সাধারণত সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের অর্থ বা সম্পদকে বোঝায়।
যার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হয়, তাকে নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করতে হয়, তেমনি তার অধীনস্থ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও তা আদায় করতে হয়। তবে জাকাতের মতো এক বছর সম্পদ ধরে রাখার শর্ত এখানে প্রযোজ্য নয়।
হাদিস শরিফে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুটি মাপকাঠির কথা বলা হয়েছে—এক ‘সা’ এবং ‘নিসফে সা’। খেজুর, পনির, জব বা কিশমিশের ক্ষেত্রে এক ‘সা’ প্রায় তিন কেজি ২৭০ গ্রামের কিছু বেশি। আর গমের ক্ষেত্রে ‘নিসফে সা’ প্রায় এক কেজি ৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি।
বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী এক ‘সা’-এর পরিমাণ তিন কেজি ৩০০ গ্রাম এবং আধা ‘সা’ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। -সহিহ বোখারি: ১৫১২
ফিতরার মূল উদ্দেশ্য হলো রোজার সময় অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি থেকে আত্মশুদ্ধি লাভ করা এবং গরিব-দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা। এ কারণে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে রয়েছে, ‘মানুষ যেন ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করে।’ -সহিহ বোখারি: ১৫০৯
তবে কোনো কারণে যদি ঈদের নামাজের আগে ফিতরা দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে পরেও তা আদায় করা যাবে। ইসলামি শরিয়তে হাদিসে বর্ণিত খাদ্যদ্রব্যের যেকোনো একটি বা তার সমমূল্যের অর্থ দিয়েও ফিতরা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।
সিএ/এমআর


