রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজা পালন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। আপাতদৃষ্টিতে রোজা একটি সহজ ইবাদত মনে হলেও এটি ঘিরে বেশ কিছু ভুল ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদরা এসব ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন।
অনেকে মনে করেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়। তবে ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। সতর্কতার জন্য অল্প পরিমাণ পেস্ট ব্যবহার বা মিসওয়াক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, মুখের লালা পেটে গেলে রোজা ভেঙে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের লালা গিলে ফেলা একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া এবং এতে রোজা ভাঙে না। তবে অন্যের লালা মুখে প্রবেশ করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
অনেকেই মনে করেন, শুধু খাবার ও পানি থেকে বিরত থাকলেই রোজা কবুল হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, গীবত, গালিগালাজ বা অন্যায় আচরণ রোজার সওয়াব নষ্ট করতে পারে। তাই রোজা শুধু উপবাস নয়, বরং আত্মসংযমের অনুশীলন।
অসাবধানতাবশত কেউ কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে যায় না, যদি তিনি সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করেন। তবে ওজুর সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সাবধান না হলে রোজা ভেঙে যেতে পারে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও ভুল ধারণা রয়েছে। চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙে না। তবে মুখে খাওয়ার ওষুধ সেহরি বা ইফতারের সময় গ্রহণ করতে হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
সিএ/এমআর


