রমজানের রাতে কায়রো শহর যেন এক ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। দিনের কোলাহল থেমে গেলে, নরম অন্ধকারে মোড়া নগরীর অলিগলি পেরিয়ে ভেসে আসে ঢাকের মৃদু ধ্বনি। এই ছন্দময় শব্দ কেবল মানুষকে সেহরির জন্য জাগায় না, বরং শতাব্দীপ্রাচীন এক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
মেসহারাতি নামের এই ব্যক্তি ঢিলেঢালা গালাবিয়া পরে, মাথায় টাকিয়া আর হাতে ছোট ঢাক নিয়ে রাতের গভীরে শহর ঘুরে বেড়ান। তার কণ্ঠের আহ্বানে মানুষ ঘুম ভেঙে সেহরির প্রস্তুতি নেয়। সাহাবিদের যুগ থেকে শুরু হয়ে এই মানবিক রীতিই সময়ের পরিক্রমায় মিশরে এক স্বতন্ত্র নগর সংস্কৃতির রূপ নিয়েছে।
ফাতেমি ও মামলুক আমলে মেসহারাতির ভূমিকা আরও সুসংগঠিত হয়। ঢাকের তালে তালে নাম ধরে মানুষকে ডাকার এই রীতি রমজানের রাতকে সুর ও স্মৃতির আবেশে ভরিয়ে তোলে। আধুনিক যুগে অ্যালার্ম ও স্মার্টফোন থাকলেও এই ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি।
আজও পুরনো কায়রোর অলিগলিতে মেসহারাতির ঢাকের শব্দ শোনা যায়। প্রযুক্তির যান্ত্রিক শব্দের বিপরীতে এই মানবিক আহ্বান নগরীর আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। এটি মানুষকে শুধু সেহরির সময় জানান দেয় না, বরং অতীত ও বর্তমানের মাঝে এক অদৃশ্য সেতু গড়ে তোলে।
রমজান শেষে মানুষ মেসহারাতিকে খাদ্য বা সামান্য অর্থ দিয়ে সম্মান জানায়। এই সম্পর্ক কোনো পেশাগত লেনদেন নয়, বরং পারস্পরিক কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। কায়রোর রমজানে মেসহারাতির ডাক তাই শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এক জীবন্ত ঐতিহ্য।
সিএ/এমআর


