মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে কোরআনে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরা বনি ইসরাঈলের ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উত্তম ও কোমল ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং শয়তানের বিভেদ সৃষ্টির ভূমিকা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
এই আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষের উচিত এমন কথা বলা যা সর্বোত্তম। কারণ শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং সে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। আলেমদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত আচরণের শিক্ষা নয়; বরং পারিবারিক, সামাজিক ও দ্বীনি পরিবেশে শান্তি বজায় রাখার একটি মৌলিক নীতি।
তাফসিরকাররা ব্যাখ্যা করেছেন, উত্তম কথা বলতে বোঝায় নম্র, সত্য ও ন্যায়সঙ্গত ভাষা, যা সম্পর্কের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি করে। কঠোর বা অপমানজনক কথা মানুষের মনে রাগ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, যা শয়তানের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।
মতভেদ বা বিরোধের সময় ভাষা আরও সংযত হওয়া জরুরি বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন। কারণ একটি কঠিন বাক্য দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। সামাজিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক কলহ কিংবা বড় ধরনের বিভেদের শুরু অনেক সময় কথার মাধ্যমেই হয়।
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, বিতর্কে জয়ী হওয়ার চেয়ে সম্পর্ক রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দাওয়াত, শিক্ষা, পরিবার কিংবা সামাজিক পরিসর—সব ক্ষেত্রেই উত্তম ভাষা ইসলামের মৌলিক নির্দেশনার অংশ।
কোরআনের এই দিকনির্দেশনা মানুষকে ভাষার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের পথে আহ্বান জানায়। কোমল ও কল্যাণমুখী ভাষাই একজন মুমিনের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিএ/এমআর


