রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। এ মাসে মুসলমানরা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়—রমজানে নারীর রান্নাঘরও ইবাদতের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে পরিণত হয়।
সাহরি প্রস্তুত করা, ইফতার আয়োজন করা এবং রোজা রেখে পরিবারের দেখাশোনা করা—এসব কাজ কেবল পারিবারিক দায়িত্ব নয়। সঠিক নিয়ত থাকলে এগুলোও আল্লাহর কাছে ইবাদতের মর্যাদা পায়। ইসলাম প্রতিটি বৈধ কাজকে ইবাদতে রূপান্তরের সুযোগ দিয়েছে।
রমজানে পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করার মাধ্যমে একজন নারী অন্যদের ইবাদতে সহায়তা করেন। এতে তিনি পরোক্ষভাবে তাকওয়ার পথে সহযোগিতার অংশীদার হন। ইফতার করানোর সওয়াব এবং সাহরির বরকত সম্পর্কিত হাদিসগুলো এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
নিয়তই কাজকে ইবাদতে পরিণত করার মূল চাবিকাঠি। দৈনন্দিন কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তা ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে। রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় কাটানো, ক্লান্তি সহ্য করা ও পরিবারের প্রয়োজনে নিজের স্বস্তি ত্যাগ করা—সবই ধৈর্য ও ত্যাগের পরিচয়।
রমজান আমাদের শেখায়, ইবাদত কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সেবা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে নীরব ইবাদতের মহিমা। এই উপলব্ধি পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সিএ/এমআর


