মানুষ সৃষ্টির শুরুতেই ভাষার এক বিস্ময়কর অধ্যায় রচিত হয়। আদম আ.-কে শব্দ ও ভাষার জ্ঞান দান করার মধ্য দিয়ে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা আসে। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ চিন্তা প্রকাশ, অনুভূতির আদান-প্রদান ও জ্ঞান চর্চার সুযোগ পায়।
জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ মায়ের কাছ থেকে ধীরে ধীরে যে ভাষা শেখে, সেটিই তার মাতৃভাষা হিসেবে গড়ে ওঠে। এই ভাষাই মানুষের প্রার্থনা, ভালোবাসা, আনন্দ-বেদনা ও প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার। ভাষার শক্তিতেই শিশুর কান্না মায়ের হৃদয় স্পর্শ করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়।
ইতিহাসের ধারায় ভাষা সাহিত্যিক, কবি ও চিন্তাবিদদের সৃষ্টিশীলতার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভাষার মাধ্যমে কবিতা, সাহিত্য ও দর্শনের বিকাশ ঘটেছে। একই সঙ্গে ভাষাই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের শক্তিশালী অস্ত্র। মাতৃভাষার টানেই মানুষ অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস প্রমাণ করে, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আত্মপরিচয় ও অধিকার রক্ষার প্রতীক। ভাষার শক্তিতেই লেখা হয়েছে বিপ্লবী ইতিহাস, গাওয়া হয়েছে বিজয়ের গান। আজও ভাষা মানুষের চিন্তা ও চেতনাকে পথ দেখায়।
সিএ/এমআর


