রমজান আত্মার পুনর্জাগরণ, চরিত্রের পরিশুদ্ধি এবং স্রষ্টার সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য সুযোগ। এই মাসে সিয়াম মানুষের সংযম বাড়ায়, কোরান চিন্তার জগৎ আলোকিত করে এবং লাইলাতুল কদর অনন্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। আলেমদের মতে, রমজানের মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া অর্জন, কোরানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন এবং লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান।
রমজানের প্রধান লক্ষ্য তাকওয়া। তাকওয়া কেবল বাহ্যিক আচরণ নয়, বরং অন্তরের সতর্কতা, ইখলাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সমন্বয়। ক্ষুধা সহ্য করা তুলনামূলক সহজ হলেও নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাই প্রকৃত পরীক্ষা। এই আত্মসংযমই মানুষের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রমজান ও কোরানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এই মাসেই কোরান নাজিল হয়েছে মানবজাতির জন্য পথনির্দেশ হিসেবে। কোরান কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়, বরং হৃদয় ও চিন্তার রূপান্তরের মাধ্যম। নিয়মিত তিলাওয়াত ও অনুধ্যান মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নেয়।
লাইলাতুল কদর রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এই রাত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুযোগ এনে দেয়। রাসুলুল্লাহ শেষ দশকে ইতিকাফ করে ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন, যা এই রাতের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
রমজান মানুষের জীবন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়। তাকওয়া চরিত্র গড়ে, কোরান চিন্তা গড়ে এবং লাইলাতুল কদর ভবিষ্যৎকে আলোকিত করে। তাই এই মাসকে আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।
সিএ/এমআর


