রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সময়। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে— রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। এর মধ্যে প্রথম দশককে বলা হয় রহমতের দশক, যেখানে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ওপর বিশেষ দয়া বর্ষণ করেন।
রহমত শব্দের অর্থ দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ। কোরআনের শুরুতেই আল্লাহর এই গুণের ঘোষণা রয়েছে। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “আমার রহমত সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” এই আয়াত রমজানের প্রথম দশকের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।” এই হাদিসের আলোকে আলেমরা প্রথম দশককে রহমতের সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই দশকে রোজা মানুষের তাকওয়া অর্জনে সহায়ক হয়। হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, “রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।” দোয়ার গুরুত্বও এ সময়ে অনেক বেশি। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও—আমি নিকটবর্তী।”
রমজানের প্রথম দশকে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ সহজ হয়। আলেমদের মতে, এই সময়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে পারলে পুরো রমজানই আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সিএ/এমআর


