আটলান্টিক মহাসাগরের তীরঘেঁষা সাহারা মরুভূমির দেশ মৌরিতানিয়ায় রমজান আসে এক ভিন্ন মাত্রা নিয়ে। এখানকার মানুষের বিশ্বাস, রমজান কেবল রোজা ও ইবাদতের মাস নয়, বরং আত্মিক শুদ্ধতা ও সামাজিক সম্প্রীতির সময়। এই বিশ্বাস থেকেই গড়ে উঠেছে কিছু অনন্য রীতি ও সংস্কৃতি।
মৌরিতানিয়ার রমজান সংস্কৃতির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো রমজানের শুরুতে চুল কাটা। দেশটির পুরুষ ও শিশুরা রমজান শুরুর আগে বা প্রথম দিনেই মাথা কামিয়ে ফেলেন। তাদের বিশ্বাস, পবিত্র এই মাসে নতুন চুল গজালে তা সারা বছরের জন্য বরকত বয়ে আনে। এই ঐতিহ্যের কারণে রমজানের প্রথম দিনে সেলুনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
রমজানে রাজধানী নুয়াকশটসহ বিভিন্ন শহরে পথিকদের জন্য স্থাপন করা হয় ইফতারের তাবু, যেগুলো পরিচিত ‘মুয়াইদুর রহমান’ নামে। এখানে দরিদ্র থেকে শুরু করে পথচারী ও মুসাফির—সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই ফ্রি ইফতার ক্যাম্প সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৌরিতানিয়ার রমজানের মানবিক দিকের একটি আলোচিত উদাহরণ হলো সাবেক গুয়ান্তানামো বন্দি মোহাম্মদৌ ওলাদ সালাহির ক্ষমাশীলতার গল্প। তিনি তার সাবেক কারারক্ষীকে নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন, যা বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
ইফতারের খাবারেও মৌরিতানিয়ার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বার্লি দিয়ে তৈরি জারেহ, মাংস ও সবজির তাজিন, খেজুর ও উটের দুধ তাদের দস্তরখানের প্রধান উপাদান। সীমিত আয়োজন হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও গভীর করে তোলে।
সিএ/এমআর


