রমজান মাসের সঙ্গে তারাবিহ নামাজের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা রোজা ফরজ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবিহ নামাজকে সুন্নত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা ও তারাবিহ আদায় করলে গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জিত হয়।
২০ রাকাত তারাবিহ রমজানের বিশেষ ইবাদত এবং এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানে তারাবিহ আদায় করবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
শরিয়তসম্মত কারণে রোজা রাখতে না পারলেও সামর্থ্য থাকলে তারাবিহ আদায় করা সুন্নত। পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতের সঙ্গে তারাবিহ পড়া সুন্নত, আর নারীরা নিজ গৃহে তারাবিহ আদায় করবেন। শিশুরাও সামর্থ্য অনুযায়ী বড়দের সঙ্গে তারাবিহ পড়তে পারে।
তারাবিহ শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। প্রতি চার রাকাত পরপর বিরতি দিয়ে নামাজ আদায় করা হয় বলেই একে তারাবিহ বলা হয়। রমজানে এশার নামাজের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময়ে তারাবিহ আদায় করা যায়।
তারাবিহর নামাজে একবার পূর্ণ কোরআন খতম করা সুন্নত, যাকে খতম তারাবিহ বলা হয়। তবে খতম না করলেও বিভিন্ন সুরা বা আয়াত দিয়ে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়া সুন্নত হিসেবেই গণ্য হয়।
হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময় থেকে সাহাবিদের ঐকমত্যে ২০ রাকাত তারাবিহ জামাতের সঙ্গে আদায়ের প্রচলন চলে আসছে। উলামায়ে কিরামের মতে, এটি সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নত, যা আজও বিশ্বজুড়ে অনুসৃত হচ্ছে।
সিএ/এমআর


