রমজানের প্রথম রোজার সেহরি শেষে পবিত্র নগরী মদিনা এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে। রাতের নীরবতা ধীরে ধীরে ভরে যায় তাকবির, তাসবিহ, দরুদ ও কুরআন তিলাওয়াতের ধ্বনিতে। সেহরি শেষে অজু করে মুসল্লিরা দলবদ্ধভাবে এগিয়ে যান মসজিদে নববীর দিকে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই ইবাদতের অংশ হয়ে ওঠে।
ফজরের আজান ধ্বনিত হলে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা কাতারে কাতারে ভরে যায়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের দৃশ্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রথম রোজার ফজরে অনেক মুসল্লি গভীর আবেগে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন, নতুন সূচনার কৃতজ্ঞতায়।
নামাজ শেষে বহু মুসল্লি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতে অগ্রসর হন। সেখানে ভক্তিভরে সালাম ও দরুদ পাঠ করা হয়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, উম্মতের সালাম নবী (সা.)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তিনি তার জবাব দেন—এই বিশ্বাস মুসল্লিদের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।
দরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একবার দরুদ পাঠে বহু গুণ সওয়াবের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষত রমজান মাসে দরুদ ও সালামের আমল আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
রমজানের প্রথম সকাল তাই শুধু দিনের সূচনা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ভালোবাসা ও ঈমান নবায়নের এক অনন্য যাত্রা। মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা অনুভব করেন ইসলামের ইতিহাস ও ত্যাগের ধারাবাহিকতা, যা আজও সমানভাবে প্রবহমান।
সিএ/এমআর


