রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মসংযম ও তাকওয়ার বিশেষ সময়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গের সব কারণ থেকে বিরত থেকে একজন রোজাদার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। তাই রোজার সময় কোন কাজ বৈধ, কোনটি মাকরুহ এবং কোনটি রোজা ভঙ্গের কারণ—এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
রান্নার সময় তরকারির লবণ বা স্বাদ ঠিক আছে কি না তা চেখে দেখা যাবে কিনা—এই প্রশ্নটি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা রান্নার দায়িত্বে থাকেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফিকহবিদদের মতে, রোজা অবস্থায় অপ্রয়োজনে খাবার চেখে দেখা মাকরুহ। তবে চাকরি রক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজনে বা অনিবার্য পরিস্থিতিতে স্বাদ চেখে দেখলে রোজা ভেঙে যায় না, যতক্ষণ না তা গলায় প্রবেশ করে। এ বিষয়ে সাহাবি ও তাবেয়িদের আমল থেকেও দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
হজরত আয়েশা রা.-এর আমল থেকে বোঝা যায়, রোজা অবস্থায় স্বাদ গ্রহণে সতর্ক থাকা উত্তম। অন্যদিকে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, গলায় প্রবেশ না করলে পাত্রের খাবার বা কোনো কিছু চেখে দেখতে অসুবিধা নেই।
মূলনীতি হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য বা পানীয় গলায় প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যাবে। স্বাদ গ্রহণের সময় সতর্ক থাকলে এবং সঙ্গে সঙ্গে তা ফেলে দিলে রোজা ভাঙে না। তবে ভুলবশত গলায় চলে গেলে পরে সেই রোজা কাজা আদায় করতে হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রোজা সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। তাই অপ্রয়োজনে খাবার চেখে দেখা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে স্বাদ গ্রহণ করা জায়েজ, যতক্ষণ না তা গলায় প্রবেশ করে।
সিএ/এমআর


