মানব জীবনে দান কেবল ধর্মীয় বা সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি জন্মগত প্রবৃত্তি। ইসলামের ফিতরাত থেকে বৌদ্ধধর্মের কার্মা পর্যন্ত প্রায় সব দর্শন স্বীকার করে যে দান বা বদান্যতা পৃথিবীর একটি অদৃশ্য নিয়ম।
ইসলামি দর্শনে দানশীলতাকে মানুষের জন্মগত স্বভাব হিসেবে দেখা হয়। আল্লাহ মানুষের মধ্যে দয়া ও অন্যের কল্যাণের আকর্ষণ স্থাপন করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহর দেওয়া ফিতরাত, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।”
খ্রিষ্টধর্মে দানকে প্রাকৃতিক আইন হিসেবে দেখা হয়। মানুষের হৃদয়ে লেখা বিধি অনুসারে তারা অন্যের জন্য কাজ করে। প্রাচ্যের হিন্দু ও বৌদ্ধ দর্শনেও দানের ধারণা গভীর। ডার্মা ও কার্মার মাধ্যমে দানকে মহাজাগতিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে দেখা হয়।
দান শুধুই ত্যাগ নয়, এটি আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের উপায়। নিউরোসায়েন্স দেখাচ্ছে, অন্যকে সাহায্য করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়, যা প্রশান্তি ও সুখ দেয়।
সঠিক দান মানে শুধুই অর্থ প্রদান নয়, বরং সমাজে বিশ্বাস, দায়িত্ব ও সুস্থ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথ। এক প্রকৃত মুমিন হিসেবে আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে—পরিবার, ব্যবসা, চাকরি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে—আমানতদারি এবং দানশীলতার পরাকাষ্ঠা দেখানো উচিত।
সিএ/এমআর


