আসন্ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাধিকার ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচন একটি মৌলিক প্রক্রিয়া হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব আরও ব্যাপক ও গভীর।
ইসলামে ভোটকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যোগ্য, সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আল্লাহভীরু ব্যক্তির হাতে এই আমানত অর্পণ করাই ইসলামের নির্দেশ। অসৎ, অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে ভোট দেওয়াকে ইসলামে বড় গোনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ভোট প্রদানের মাধ্যমে একজন ভোটার মূলত তিনটি কাজ করেন—সাক্ষ্য প্রদান, সুপারিশ এবং ক্ষমতা অর্পণ। অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া মানে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া, যার দায়ভার ভোটারকেই বহন করতে হবে।
ইতিহাসে দেখা যায়, রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর সাহাবায়ে কেরাম রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নেতা নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, নেতৃত্ব নির্বাচন ইসলামে কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই একটি ইবাদত। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জনগণের সেবা করতে চান এবং সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন, তাদের সমর্থন করাই ঈমানি দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, সমাজে পরিপূর্ণ যোগ্য ব্যক্তি না পাওয়া গেলেও তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ও নীতিনিষ্ঠ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে বৃহত্তর ক্ষতি রোধ করার চেষ্টা করতে হবে। ভোটদানে বিরত থাকা নয়, বরং বিবেচনার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই ইসলামের শিক্ষা।
সিএ/এমআর


