ইসলামে বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। বিতর অর্থ বিজোড় এবং এই নামাজ তিন রাকাত হওয়ায় একে বিতর বলা হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময়ে এই নামাজ আদায় করা যায়।
হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও বিতর নামাজ ছাড়তেন না এবং সাহাবিদেরও এই নামাজ পড়ার নির্দেশ দিতেন। আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) তাকে তিনটি বিষয় মেনে চলার উপদেশ দেন, যার মধ্যে ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ আদায় করার কথাও রয়েছে।
বিতর নামাজ আদায়ের উত্তম সময় হলো রাতের শেষ প্রহর। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত তাহাজ্জুদের পর বিতর নামাজ আদায় করতেন। তবে যারা তাহাজ্জুদে উঠতে না পারার আশঙ্কা করেন, তারা এশার নামাজের পরই বিতর আদায় করতে পারেন।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ তিন রাকাত। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) প্রথম রাকাতে সুরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে দোয়া কুনুত পড়া হয়।
বিতর নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বিতর নামাজ আদায়কারীকে ভালোবাসেন। নারী-পুরুষ, মুকিম ও মুসাফির—সবার জন্যই এই নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এশা ও সুবহে সাদিকের মধ্যবর্তী সময়কে আল্লাহ তায়ালা বিতর নামাজের জন্য নির্ধারণ করেছেন, যা অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
সিএ/এমআর


