ইসলামে সদকা বা দান কেবল অর্থ ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি ভালো কাজই সদকা হিসেবে গণ্য হয়—এমন শিক্ষাই দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বাণীগুলোর একটি হলো, “প্রত্যেকটি ভালো কাজই সদকা।”
হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেকটি নেক কাজ বা কল্যাণকর কাজই হলো সদকা।” এই হাদিসের মাধ্যমে দানের ধারণাকে অর্থের সীমা ছাড়িয়ে মানবিক ও নৈতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সদকা বলতে এমন সব কাজ বোঝায়, যা শরিয়ত ও বিবেক অনুযায়ী কল্যাণকর। কারও মুখে হাসি ফোটানো, পথ হারানো মানুষকে দিকনির্দেশনা দেওয়া, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা অন্যের উপকার করা—সবই সদকার অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ার বিপরীতে প্রতিদিন সদকা আদায় করা প্রয়োজন। জিকির করা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা কিংবা সমাজে শান্তি বজায় রাখতে কাজ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এমনকি দাম্পত্য জীবনে ন্যায় ও দায়িত্বশীল আচরণও সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
এই শিক্ষার মাধ্যমে ইসলাম সমাজে মানবিকতা, সহানুভূতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা দেয়। ছোট ছোট ভালো কাজের মধ্য দিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ রয়েছে—এই বিশ্বাস মানুষের জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
সিএ/এমআর


