নবীজি (সা.)-এর যুগে ইসলামের জন্য শুধু পুরুষ সাহাবিরাই নয়, নারী সাহাবিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ওহুদের যুদ্ধে তাদের অবদান ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা আহতদের চিকিৎসা, অসুস্থদের সেবা, সৈনিকদের পানি পান করানোসহ প্রয়োজনে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন যুদ্ধে যেতেন, তখন উম্মে সুলাইম (রা.) ও আনসার নারীদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন। তারা যোদ্ধাদের পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। সহিহ মুসলিমে এই বর্ণনার উল্লেখ রয়েছে।
নবীজির (সা.) সাহাবি হজরত উম্মে আতিয়্যা (রা.) জানান, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এসব যুদ্ধে তিনি সৈনিকদের সরঞ্জাম দেখাশোনা, খাবার প্রস্তুত, আহতদের চিকিৎসা ও অসুস্থদের সেবা করতেন।
ওহুদের যুদ্ধে নবীজির (সা.) সঙ্গে উপস্থিত নারী সাহাবিদের মধ্যে ছিলেন নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.), উম্মে সুলাইম (রা.) ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ওই যুদ্ধে আয়েশা (রা.) ও উম্মে সুলাইম (রা.) মশক বহন করে সাহাবিদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন।
ওহুদের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.)। তিনি স্বামী ও দুই ছেলেসহ নবীজির (সা.) পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে তাকে রক্ষা করেন। তার এই সাহসিকতার জন্য নবীজি (সা.) তার পরিবারকে উদ্দেশ করে দোয়া করেন এবং জান্নাতে সঙ্গী হওয়ার প্রার্থনা করেন।
সিএ/এমআর


