রোববার (৭ ডিসেম্বর) ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়তপূর্ব জীবন আলোচনায় উঠে এসেছে। ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র মক্কায় তার জন্ম মানবজাতির জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। পিতামহ আবদুল মুত্তালিব তার নাম রাখেন মুহাম্মাদ, যার অর্থ অত্যধিক প্রশংসিত।
নবীজির বংশ ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। পিতৃকুলে তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু হাশিম শাখার সন্তান এবং মাতৃকুলেও সম্ভ্রান্ত বংশের উত্তরাধিকারী। জন্মের আগেই পিতা আবদুল্লাহর ইন্তেকালের কারণে শৈশবেই তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।
আরব সমাজের রীতি অনুযায়ী নবজাতককে গ্রাম্য পরিবেশে লালন-পালনের অংশ হিসেবে তিনি বনু সাদ গোত্রের হজরত হালিমা সাদিয়ার কাছে বেড়ে ওঠেন। তার আগমনে হালিমার পরিবারে অভাব দূর হয়ে প্রাচুর্য নেমে আসে বলে বর্ণনা পাওয়া যায়।
ছয় বছর বয়সে মায়ের ইন্তেকালের পর পিতামহ আবদুল মুত্তালিব এবং পরবর্তীতে চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে তার জীবন এগিয়ে চলে। কৈশোরে ব্যবসায়িক সফরে অংশ নিয়ে তিনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দেন, যা সমাজে তাকে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
হজরত খাদিজার সঙ্গে তার বিবাহ নবীজির জীবনে স্থিতি ও মানসিক প্রশান্তির ভিত্তি গড়ে দেয়। নবুয়তের পূর্ববর্তী এই জীবনকালেই তার চরিত্রের মানবিকতা, ধৈর্য ও নেতৃত্বগুণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সিএ/এমআর


