মানুষের জীবন সুখ-দুঃখের সমন্বয়। স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি অসুস্থতা, ব্যথা ও নানা বিপদ-আপদ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক সময় এসব কষ্ট মানুষকে হতাশ করে তোলে। কিন্তু ইসলাম শেখায়, একজন মুমিনের জীবনে আসা প্রতিটি কষ্টই আল্লাহর হিকমত ও রহমতের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সামান্য কষ্ট অনেক সময় আখিরাতের বড় শাস্তি থেকে রক্ষার উপায় হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এ বাস্তবতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে, আল্লাহ তা দ্বারা তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি শরীরে একটি কাঁটা বিঁধলেও সেটিও গুনাহ মোচনের কারণ হয়।
এই হাদিস মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করে দেয়। সাধারণত কষ্টকে মানুষ শাস্তি মনে করে। অথচ ঈমান ও সবরের সঙ্গে সহ্য করা কষ্ট বান্দার আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হয়ে ওঠে। সামান্য কষ্টও আল্লাহর কাছে অবমূল্য নয়—এ কথাই এখানে স্পষ্ট।
এ থেকে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনে বিপদ আসা মানেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নয়। বরং অনেক সময় তা আল্লাহর রহমতের নিঃশব্দ ভাষা, যা মানুষকে তাওবা ও আল্লাহর দিকে আরও ফিরে আসতে সহায়তা করে।
তবে এই প্রতিদান তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষ কষ্টের মুহূর্তে সবর অবলম্বন করে এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে। অভিযোগ ও হতাশা পরিহার করে আল্লাহর সাহায্য কামনাই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।
সিএ/এমআর


