স্বামী যদি ধনী বা সম্পদশালী হন আর স্ত্রী যদি দরিদ্র বা সম্পদহীন হন, সে ক্ষেত্রে স্ত্রীকে জাকাত দেওয়া যাবে কি না—এ প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, স্বামী সম্পদশালী হলেই স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদশালী হিসেবে গণ্য হন না। ফলে স্বামী ধনী হলেও স্ত্রী যদি নিজে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, তাহলে তিনি দরিদ্র হিসেবে বিবেচিত হবেন। এমন অবস্থায় স্বামী ছাড়া অন্য কোনো ধনী ব্যক্তি তাকে জাকাত দিতে পারবেন।
তবে স্বামী নিজে তার দরিদ্র স্ত্রীকে নিজের জাকাতের অর্থ দিতে পারবেন না। কারণ স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যয় বহন করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় দায়িত্ব। যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব শরিয়ত অনুযায়ী নিজের ওপর বর্তায়, তাদের জাকাত দেওয়া বৈধ নয়।
এই বিধানের আওতায় বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী কিংবা নিজের সন্তান, নাতি-নাতনির মতো আত্মীয়দের জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ। তারা অভাবে পড়লে সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান নারী ও পুরুষের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক। হিজরি এক বছর নিসাব পরিমাণ সম্পদ নিজের দখলে থাকলে সেই সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে দিতে হয়।
কোরআনে জাকাত শব্দের উল্লেখ বহুবার এসেছে এবং নামাজের পরই জাকাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তুলে ধরা হয়েছে। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাকাত দরিদ্র, অভাবী, জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মচারী, অন্তর আকৃষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তি, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে ব্যয় ও মুসাফিরদের মধ্যে বণ্টন করা যায়।
সিএ/এমআর


