মানুষ সাধারণত শক্তি, সম্পদ ও সংখ্যার দিকে তাকিয়ে বিজয় বা সাফল্য নির্ধারণ করে। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ এই ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। ইসলাম অনুযায়ী আল্লাহর সাহায্যের মানদণ্ড হলো বিনয়, নিঃস্বতার আর্তি এবং ভাঙা হৃদয়ের দোয়া।
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত এক হাদিসে মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রা.) উল্লেখ করেছেন, সা‘দ (রা.) ভাবতেন তার মর্যাদা অন্যদের তুলনায় বেশি। তখন নবী (সা.) বলেছেন— ‘তোমরা তো দুর্বলদের (দোয়ায়) ওয়াসীলায়ই সাহায্যপ্রাপ্ত ও রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৯৬)
দুর্বলদের মধ্যে শুধু শারীরিকভাবে দুর্বল নয়, বরং দরিদ্র, অসুস্থ, এতিম, বিধবা, নিঃস্ব ও গোপন আমলসম্পন্ন মুমিনও অন্তর্ভুক্ত। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি বলেছেন, এই দুর্বলদের অন্তর অহংকারমুক্ত হওয়ায় তাদের দোয়া অধিক কবুল হয়।
হাদিসের শিক্ষায় জানা যায়, দোয়া কোনো দুর্বল অস্ত্র নয়, বরং এটি আল্লাহর সিদ্ধান্তকে সক্রিয় করে। বদরের যুদ্ধের উদাহরণ দেখায়, সংখ্যায় কম ও অস্ত্রে দুর্বল মুসলমানরাও আল্লাহর সাহায্যে বিজয় অর্জন করেছে।
আজকের সমাজে দরিদ্র মাদরাসার ছাত্র, গ্রামের ইমাম, বা নিঃশব্দে দোয়া করা নারী আমাদের উন্নয়ন ও বরকতের উৎস হতে পারে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, দুর্বলদের অবহেলা করা মানে আল্লাহর সাহায্য থেকে নিজেদের বঞ্চিত করা।
সিএ/এমআর


