ইসলামের দৃষ্টিতে রাতের ইবাদত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিতভাবে শেষ রাতে কোরআনের নির্দিষ্ট কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বিশেষভাবে সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করতেন এবং এর ফজিলতের কথা উম্মতকে জানিয়ে গেছেন।
হজরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সুরা আলে ইমরানের শেষ অংশ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য রাত জেগে নামাজ আদায়ের সওয়াব লেখা হবে। এই হাদিসে রাতের তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও বরকতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেক বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এক রাতে তিনি মহানবীর (সা.) স্ত্রী হজরত মাইমুনার (রা.) ঘরে অবস্থান করছিলেন। তখন নবীজি (সা.) কিছু সময় ঘুমানোর পর রাতের মাঝামাঝি বা তার আশপাশে জেগে ওঠেন। জাগ্রত হয়ে তিনি মুখমণ্ডল পরিষ্কার করেন এবং সুরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর তিনি সুন্দরভাবে ওজু সম্পন্ন করে নামাজে দাঁড়িয়ে যান।
এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, তাঁর মহিমা ও একত্বের স্বীকৃতি, ক্ষমা প্রার্থনা, জান্নাতের সুসংবাদ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তির দোয়া রয়েছে। এসব আয়াত পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলমানের ঈমান মজবুত হয় এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শেষ রাতে এসব আয়াত তিলাওয়াত করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে, আল্লাহর প্রতি ভরসা বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। একই সঙ্গে এটি একজন মুসলমানকে ধৈর্য, তাকওয়া ও নৈতিকতার পথে অটল থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
সিএ/এমআর


